top of page

নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য অর্জনে বছরে প্রয়োজন ২১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা

Jun 21, 2026

| Samakal

২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতি বছর অন্তত ২১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে দাবি করেছে পরিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, আগামী অর্থবছরের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৩৭৯ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২ দশমিক ২ শতাংশ। বাকি প্রায় ৯৮ শতাংশ বরাদ্দই জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর খাতে যাচ্ছে।

আজ রোববার রাজধানীর গ্রিন লাউঞ্জে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেটে জ্বালানি খাত: নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)। সহযোগী হিসেবে ছিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), ইথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের ওপর আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের ঘোষণাকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ব্যয় ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

তবে তারা অভিযোগ করেন, বাজেট ঘোষণার কয়েক দিন আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনে এমন কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা সাধারণ গ্রাহক, কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাদের মতে, এতে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সুবিধা পেলেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা কর-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

ক্লিনের প্রধান নির্বাহী ও বিডব্লিউজিইডির সদস্য সচিব হাসান মেহেদী বলেন, সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের উদ্যোগকে সফল করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব কর-সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হবে।

বেলার প্রতিনিধি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বাজেট ও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনাও থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বাইরে বিদ্যমান জ্বালানি বৈষম্য দূরেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন, আবাসিক সৌরবিদ্যুতের জন্য সরাসরি ভর্তুকি, কর্পোরেট বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি দ্রুত চালু এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনে নির্গমন কর আরোপসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনের জন্য এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিকল্প নেই। বাজেট ও নীতিতে সেই প্রতিফলন না ঘটলে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।


News link: নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য অর্জনে বছরে প্রয়োজন ২১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা

bottom of page