top of page

পিডিবির মাথায় রেকর্ড লোকসান, এক বছরে বেড়ে দ্বিগুণ

Dec 20, 2025

| ইমরান হোসেন

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ২০২৪–২৫ অর্থবছরে লোকসানের নতুন রেকর্ড গড়েছে, আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে লোকসান পৌঁছেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।


দেশের বিদ্যুৎ খাতের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে পিডিবির লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ৮ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা ছিল। অর্থাৎ এক বছরে লোকসান বেড়েছে ৮ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা, বা প্রায় ৯৪ শতাংশ।


পিডিবির অডিটর প্রতিবেদনে লোকসানের এই চিত্র উঠে এসেছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকায়, আগের বছর যা ৩৮ হাজার ২৯০ কোটি টাকা ছিল।


বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে ভুগছে। অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা, অদক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবহার, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা—এই সবকিছু মিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।


জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যার মূলে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা, যা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।


২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই লোকসান সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ খাত ঠিক করতে যে কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার, বর্তমান সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।”


তার ভাষ্য, লোকসান কমানোর দুটি পথ রয়েছে। উৎপাদন ব্যয় কমানো অথবা খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো; কিংবা দুটোই একসঙ্গে করা। কিন্তু ক্ষমতায় এসে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার, যা অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আবার উৎপাদন ব্যয়ও আগের মত উচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে।


এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে একাধিকবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো হলেও লোকসান কমেনি। বরং বিশেষজ্ঞরা ওভাবে মূল্যবৃদ্ধিকে ‘লুটপাটের হাতিয়ার’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এ খাতের গভীর কাঠামোগত সমস্যাগুলো উপেক্ষিতই থেকে গেছে।


এই ‘কাঠামোগত’ সমস্যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বিদ্যুৎ চুক্তি, যার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি কিছু কোম্পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন করুক বা না করুক, নিশ্চিত মুনাফা পেয়ে এসেছে। এই মুনাফার মূল ভিত্তি হল ক্যাপাসিটি চার্জ, যার আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী ও বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নিশ্চিত মুনাফা পান, এমনকি কেন্দ্রটি বসে থাকলেও।


বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে প্রকৃত চাহিদা ও প্রবৃদ্ধির অসামঞ্জস্যের কারণে বহু কেন্দ্র দীর্ঘ সময় অলস পড়ে থাকে। তখনও সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয়।


সংবাদ লিঙ্ক: পিডিবির মাথায় রেকর্ড লোকসান, এক বছরে বেড়ে দ্বিগুণ

bottom of page