top of page

মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

Aug 25, 2026

| নিজস্ব প্রতিবেদক

মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) আইন, ২০২৬-এর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস.এম. ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।


পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমি ও জীবিকার অধিকার এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন নিয়ে জনস্বার্থে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন আদালত।


রুলে মিডা আইন ২০২৬-এর ৭, ৮, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ১৫, ২০ ও ২৪ নম্বর ধারা কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা বিবাদীপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।


আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।


লইয়ার্স ফর এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (লিড) এবং উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান। আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনিরা হক মনি।


দফতরে চেয়ারের পেছনে জাতীয় পতাকা রাখা কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল

রিট আবেদনে বলা হয়, মিডা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ মহেশখালীর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা, ভূমি ব্যবহার এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা একটি বিশেষায়িত নির্বাহী কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছে। এই ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন সংবিধানের ১৮(ক), ২৭, ৩১, ৩২, ৩৬, ৪০, ৪২, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।


বিশেষ করে পরিবেশ সংরক্ষণ, আইনের দৃষ্টিতে সমতা, জীবনের সুরক্ষা, জীবিকার স্বাধীনতা এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত সাংবিধানিক নিশ্চয়তাকে এই আইনটি খর্ব করছে বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।


আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মহেশখালী একটি পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও মিডা-এর ১২ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি। এটি সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারের পরিপন্থী।পান আইনি পরামর্শ


এছাড়া পরিবেশগত ছাড়পত্রের প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এই আইন তৈরি করতে পারে না বলেও আবেদনে জানানো হয়।


রিটকারীদের মতে, এই আইন প্রণয়নের আগে স্থানীয় জনগণের সাথে কোনো কার্যকর জনশুনানি বা পরামর্শ করা হয়নি। বিশেষ করে মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী পেশা লবণ চাষ, মৎস্য ও চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকা এই আইনের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যথাযথ পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের ক্ষমতা মানুষের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।


রিটে আরও বলা হয়, ১০ থেকে ১৫ নম্বর ধারার মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবহারের যে ব্যাপক ক্ষমতা মিডা-কে দেওয়া হয়েছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্তদের আপত্তি জানানোর বা শুনানির পর্যাপ্ত সুযোগ রাখা হয়নি।


আবেদনকারীদের ভাষ্য, যে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম অবশ্যই সংবিধান, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত আইনি কাঠামোর মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়। কোনো বিশেষ কর্তৃপক্ষকে এমন ক্ষমতা দেওয়া উচিত নয়, যা নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ভূমিকাকে দুর্বল করে দেয়।


News Link: মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

bottom of page