top of page

November 18, 2025

Election Manifesto (Bangla)

Demands to the political parties for a Just Transition in the Energy Sector Citizens’ Manifesto (Bangla)

Demands to the political parties for a Just Transition in the Energy Sector Citizens’ Manifesto (Bangla)

বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত এক যুগ-সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের ৯৯.২৫ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুতের আওতাভূক্ত হয়েছে, মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ গত দেড় দশকে ২২০ ইউনিট থেকে ৬৪০ ইউনিটে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকিও বেড়েছে বহুগুণ। ২০০৮ সাল থেকে বিগত ১৬ বছরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়েছে । 


আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির খরচ ও ক্যাপাসিটি চার্জ মেটাতে গিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড গত ১৬ বছরে প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার ২৩২ কোটি টাকা লোকসানের শিকার হয়েছে। এ লোকসান সামলানোর জন্য জনগণের করের টাকা থেকে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। এসব ভর্তুকির টাকা শেষ পর্যন্ত কিছু অসাধু জ্বালানি ব্যবসায়ীর পকেটে চলে গেছে, যা বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 


এখন প্রতি বছর গড়ে এক লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান আমদানি-নির্ভরতা একদিকে যেমন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, অন্যদিকে তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। জীবাশ্ম জ্বালানির উপর অতি-নির্ভরতার কারণে দেশের কার্বন নির্গমনের পরিমাণও বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের মোট কার্বন নির্গমনের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৬৮ লাখ টন; গত ১৬ বছরে দ্বিগুণ বেড়ে তা প্রায় ২৮ কোটি ১৪ লাখ টনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাথাপিছু নির্গমনের পরিমাণ এখন প্রায় ১.৬৬ টন। 


একই ভাবে দেশের পরিবেশের উপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ‘বৈশ্বিক পরিবেশ সংরক্ষণ সূচকে পৃথিবীর ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অবস্থান ১৭৫তম । ঢাকার বায়ুমান পৃথিবীর সবথেকে দুষিত শহরগুলোর অন্যতম; পৃথিবীর বসবাস-অযোগ্য তিনটি শহরের মধ্যে ঢাকা একটি। কয়লা, গ্যাস ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দেশের ২৮ শতাংশ বায়ুদূষণের জন্য দায়ী। দেশের মোট কার্বন নির্গমনের ১৭ শতাংশ‍ই বিদ্যুৎ খাত থেকে নির্গত হয় । 

রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণ ও শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে কমপক্ষে ১৩ জন স্থানীয় নাগরিক খুনের শিকার হয়েছেন। আহতের সংখ্যা কয়েক শত। জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধেও। 


জরুরি। যতো দ্রুত আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দিকে যেতে পারবো, ততো দ্রুতই ব্যয়বহুল আমদানি-নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবো। ফলশ্রুতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমে আসবে। এই উপলব্ধি থেকে আমাদের সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। 


সরকার ও রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার ও ভূমিকার উপরই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ইতিবাচক পরবর্তন নির্ভর করে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের স্ব স্ব নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করবে। যে কারণে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ন্যায্য রূপান্তরের জন্য একটি ‘নাগরিক ইশতেহার' প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, রাজনৈতিক দলসমূহের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাতে তারা তাদের স্ব স্ব নির্বাচনী ইশতেহারে সময়োপযোগী প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। এর আরেকটি উদ্দেশ্য হলো, রাজনৈতিক দলসমূহকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে খোলা মনে সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা করতে সহযোগিতা করা, যা তাদের স্ব স্ব নির্বাচনী ইশতেহারে লিপিবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 


এছাড়া এই ইশতেহারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সাধারণ নাগরিকদেরও নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা আনায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এই বিবেচনায়, নাগরিক ইশতেহারে এই বিষয়গুলোকে নাগরিক দাবিনামা হিশেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। 

bottom of page