
June 18, 2026
Policy Brief

The Potential of Rooftop Solar Power in Bangladesh (Bangla)
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হওয়ায় প্রতি বছর প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ( এক লাখ ৪৬ হাজার ১৭২ কোটি টাকা) জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় করতে হয়। এই নির্ভরতা যেমন: বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তেমনি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, ভর্তুকি এবং জ্বালানি নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিও তৈরি করছে। গত দুই দশকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ এক লাখ ৭৮ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা (১৮.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয় করেছে, যা দিয়ে প্রায় ৩২,৪০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব হতো।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কেবল জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। শুধুমাত্র সরকার ঘোষিত ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে আবাসিক খাতে প্রায় দুই লাখ ৬৬ হাজার এবং বাণিজ্যিক খাতে প্রায় এক লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে এবং একইসাথে প্রায় এক লাখ ২৭ হাজার ২০০ টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। তাছাড়াও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিল্প-কারখানা ও আবাসিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের বিস্তার বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা কমাবে, গ্রিডের ওপর চাপ হ্রাস করবে এবং বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।
পরিবার পর্যায়েও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে তিন কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা যথেষ্ট, যার স্থাপন ব্যয় প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং বিনিয়োগের অর্থ প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে উসুল হবে। পরবর্তী ১৫ বছর পরিবারটি প্রায় বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনের ক্ষেত্রে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ একটি কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফলে জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা হ্রাস, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।