top of page

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করবে

Jan 19, 2026

| স্টাফ রিপোর্টার

অন্তর্বর্তী সরকারের ২৫ বছর মেয়াদি খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। গতকাল রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এটি অবিলম্বে স্থগিত ও সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানানো হয়।


বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা উপেক্ষা করে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করবে। এই খসড়া পরিকল্পনা কার্যকর হলে আগামী কয়েক দশক ধরে জনগণকে উচ্চ বিদ্যুৎমূল্য, বাড়তি কর ও ভর্তুকির চাপের পাশাপাশি অপূরণীয় পরিবেশগত ক্ষতির খেসারত দিতে হবে।


বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোটের (বিডব্লিউজিইডি) উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সহআয়োজক ছিল উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), আমরাই আগামী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ, ইথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ, জেট-নেট বিডি, লয়ার্স ফর এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, রি-গ্লোবাল, সৌহার্দ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, সেইফটি অ্যান্ড রাইটস, ওয়াটারকিপার্স এবং শ্রমিক নেতৃত্বাধীন ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক।


সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্লিনের নেটওয়ার্ক অ্যাডভাইজার মনোয়ার মোস্তফা। তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি ২০২৫) পূর্বের মতো ভবিষ্যতেও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পকে বৈধতা দেওয়ার কাঠামো তৈরি করছে। তাঁর মতে, দেশের বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা ৪০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ পরিকল্পনায় তা অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হবে এবং জনগণকে ক্যাপাসিটি চার্জসহ বাড়তি আর্থিক বোঝা বহন করতে হবে।


তিনি বলেন, মহাপরিকল্পনায় জ্বালানি রূপান্তরের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রকৃত নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ১৭ শতাংশ। সেখানে কাগজে দেখানো হয়েছে ৪৪ শতাংশ। পরিকল্পনায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ১৫ দশমিক ৮ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৫ দশমিক ২ গিগাওয়াট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৫০ সাল পর্যন্ত এলএনজি, কয়লা ও জ্বালানি তেলের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ নির্ভরতা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। এতে ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার ২০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানির চাপ তৈরি হবে, যা অর্থনীতি, রিজার্ভ ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি।


বিডব্লিউজিইডির সদস্য সচিব হাসান মেহেদী বলেন, খসড়া এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনসাধারণ, নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো উন্মুক্ত পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনথি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি আগের সরকারের অস্বচ্ছ নীতি প্রণয়নের পুনরাবৃত্তি।


লিডের গবেষণা পরিচালক শিমনউজ্জামান বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে নাগরিক সমাজকে উপেক্ষা করে আবারও আইইপিএমপি ২০২৩-এর মতো একটি বিতর্কিত মহাপরিকল্পনা আনার উদ্যোগ হতাশাজনক।


ইথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের পরিচালক মুনীর উদ্দীন শামীম বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এটি এগিয়ে গেলে রপ্তানি খাত গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।


সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জেট-নেট বিডির ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক ওয়াসিউর রহমান এবং ওয়াটারকিপার্সের ম্যানেজার সৈয়দ তাপস।


সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে ইপিএসএমপি ২০২৫ স্থগিত ও বাতিল, নাগরিক সমাজ ও জনগণের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে বাস্তবসম্মত ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং নবনির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ।


সংবাদ লিঙ্ক: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করবে

bottom of page